চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক এমপি গোলাম আকবর খন্দকারের গাড়িবহরে হামলায় উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৮ টায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এছাড়াও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারিয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী, মিরসরাই থানা যুবদলের আহবায়ক কামাল উদ্দিন, জোরারগঞ্জ থানা যুবদলের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম। উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের ৫ জন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় আদর্শের বাইরে গিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের ভেতরে কোন্দল জিইয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়।
বহিষ্কার আদেশ প্রচারের পর পর উপজেলার করেরহাট, বারিয়ারহাট, জোরারগঞ্জ, বড়তাকিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
মঙ্গলবার বিকালে রাউজানে উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের গাড়িবহরে হামলায় তিনিসহ অন্তত ২০ জন আহতেন খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার জন্য গোলাম আকবর খন্দকার তার প্রতিপক্ষ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দায়ী করেছেন।
এই অভিযোগ অস্বীকার করে দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে আমি ঢাকায় আছি। এই হামলার বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে রাউজান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করার কর্মসূচী ছিল। পথে রাউজান পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের সত্তরঘাট এলাকায় আগে থেকে ওঁতপেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। হামলার জেরে নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির এই দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এসবকে কেন্দ্র করে গত এক বছরে রাউজানে উভয়পক্ষের ১৩ জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে দুইজনকে কেন্দ্রীয় বিএনপি শোকজ করেছিল। এরপরও সুফল আসেনি।