চট্টগ্রাম 3:54 pm, Monday, 9 March 2026

দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নারীর সক্রিয় ভূমিকা জরুরি: মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম: দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দুর্যোগপ্রবণ চট্টগ্রামে পাহাড়ধসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারীরা প্রায়ই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই নারীদের কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে নয়, বরং সাহসী স্বেচ্ছাসেবক ও সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।

রবিবার, (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নগরীর হোটেল আগ্রাবাদের কনফারেন্স কক্ষে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) আয়োজিত “আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীদের সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মেয়র আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য- “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” বাস্তবায়নে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কমিউনিটি পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সামাজিক সহনশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ইপসা ইতোমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে নারী স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারীদের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। এ ধরনের স্বীকৃতি তাঁদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে উৎসাহ জোগাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ বিচিত্রা সেন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সংগঠক ডা. বাসনা মুহুরী, সাংবাদিক  ভূঁইয়া নজরুল প্রমূখ।  শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ইপসার প্রজেক্ট ম্যানেজার সানজিদা আক্তার এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রজেক্ট অফিসার মুহাম্মদ আতাউল হাকিম।

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং সংগঠিত অংশগ্রহণ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তারা নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার মাধ্যমে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের বাস্তব চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা জোরদার করা গেলে দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন কৃতিমান নারীর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নিয়ে একটি সচিত্র ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের কয়েকজন নারী তাঁদের সংগ্রাম ও সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা উপস্থিতদের অনুপ্রাণিত করে। এ ছাড়া অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরিতে একটি কুইজ পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ৭০ জন নারী স্বেচ্ছাসেবক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি মেয়র ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চলছে

দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নারীর সক্রিয় ভূমিকা জরুরি: মেয়র শাহাদাত

Update Time : 10:32:15 pm, Sunday, 8 March 2026

চট্টগ্রাম: দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। দুর্যোগপ্রবণ চট্টগ্রামে পাহাড়ধসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নারীরা প্রায়ই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই নারীদের কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে নয়, বরং সাহসী স্বেচ্ছাসেবক ও সামাজিক পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে।

রবিবার, (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নগরীর হোটেল আগ্রাবাদের কনফারেন্স কক্ষে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) আয়োজিত “আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীদের সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মেয়র আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য- “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” বাস্তবায়নে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কমিউনিটি পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে এবং সামাজিক সহনশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ইপসা ইতোমধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে নারী স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলা এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারীদের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। এ ধরনের স্বীকৃতি তাঁদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে উৎসাহ জোগাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ বিচিত্রা সেন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সংগঠক ডা. বাসনা মুহুরী, সাংবাদিক  ভূঁইয়া নজরুল প্রমূখ।  শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ইপসার প্রজেক্ট ম্যানেজার সানজিদা আক্তার এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রজেক্ট অফিসার মুহাম্মদ আতাউল হাকিম।

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং সংগঠিত অংশগ্রহণ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তারা নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার মাধ্যমে নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের বাস্তব চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা জোরদার করা গেলে দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন কৃতিমান নারীর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নিয়ে একটি সচিত্র ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের কয়েকজন নারী তাঁদের সংগ্রাম ও সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা উপস্থিতদের অনুপ্রাণিত করে। এ ছাড়া অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরিতে একটি কুইজ পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ৭০ জন নারী স্বেচ্ছাসেবক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি মেয়র ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।