চট্টগ্রাম 11:13 pm, Wednesday, 11 March 2026

পুতুলনাট্যে দুর্যোগ সচেতনতার বার্তা: চট্টগ্রাম ও বাঁশখালীতে ইপসার ব্যতিক্রমী আয়োজন

দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের মাঝে আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চট্টগ্রাম নগরী ও বাঁশখালীতে ব্যতিক্রমধর্মী পুতুলনাট্য “নিরাপদে বাঁচি” প্রদর্শিত হয়েছে। ৯ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত কয়েকদিনব্যাপী এই সচেতনতামূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় পাহাড়ধসপ্রবণ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর আয়োজনে, জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস-এর অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সার্বিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। নাটকটি নির্মাণ ও পরিচালনা করে ক্যানভাস পাপেট শো, পটিয়া।

পুতুলনাট্যের মাধ্যমে সহজ ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় কমিউনিটির মানুষকে দুর্যোগের পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নাটকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক ও আবহাওয়া ক্লাবের ভূমিকা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, গবাদিপশু রক্ষা, কৃষি ও খাদ্য সংরক্ষণসহ জরুরি সহায়তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পাহাড়ধসপ্রবণ বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এই পুতুলনাট্য প্রদর্শিত হয়। প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও বাস্তবমুখী বার্তার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

নাটকটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ কলোনির ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আছিয়া খাতুন বলেন,
“বাবারে, কী আর কমু! এত সুন্দর পুতুলের নাটক দেখে মন ভইরা গেছে। অনেক কিছু জানতে পারলাম।”

অন্যদিকে ষোলশহর স্টেশন এলাকার সাবু মিয়া বলেন,
“আহা! কী যে ভালো লাগছে। মানুষ দুর্যোগ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারছে।”

উল্লেখ্য, জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় ইপসা “শিশু-কেন্দ্রিক আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তর ও উপকূলীয় অঞ্চলের কমিউনিটি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নম্বর শুলকবহর, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ও ১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও কালিপুর ইউনিয়নে পাহাড়ধসের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্প কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমধর্মী পুতুলনাট্যের আয়োজন করা হয়।

পুতুলনাট্য প্রদর্শনের সময় আয়োজিত জনসচেতনতামূলক আলোচনায় অংশ নেন ইপসার ব্যবস্থাপক (আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি) সানজিদা আক্তার, সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা ফারাবী আকাশ, ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম এবং শাহরিয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।

সচেতনতার বার্তা নিয়ে পুতুলের মঞ্চে সাজানো এই আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের মধ্যে আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে একটি কার্যকর সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পুতুলনাট্যে দুর্যোগ সচেতনতার বার্তা: চট্টগ্রাম ও বাঁশখালীতে ইপসার ব্যতিক্রমী আয়োজন

পুতুলনাট্যে দুর্যোগ সচেতনতার বার্তা: চট্টগ্রাম ও বাঁশখালীতে ইপসার ব্যতিক্রমী আয়োজন

Update Time : 09:48:10 pm, Wednesday, 11 March 2026

দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের মাঝে আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চট্টগ্রাম নগরী ও বাঁশখালীতে ব্যতিক্রমধর্মী পুতুলনাট্য “নিরাপদে বাঁচি” প্রদর্শিত হয়েছে। ৯ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত কয়েকদিনব্যাপী এই সচেতনতামূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় পাহাড়ধসপ্রবণ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর আয়োজনে, জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস-এর অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সার্বিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। নাটকটি নির্মাণ ও পরিচালনা করে ক্যানভাস পাপেট শো, পটিয়া।

পুতুলনাট্যের মাধ্যমে সহজ ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় কমিউনিটির মানুষকে দুর্যোগের পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নাটকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক ও আবহাওয়া ক্লাবের ভূমিকা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, গবাদিপশু রক্ষা, কৃষি ও খাদ্য সংরক্ষণসহ জরুরি সহায়তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পাহাড়ধসপ্রবণ বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এই পুতুলনাট্য প্রদর্শিত হয়। প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও বাস্তবমুখী বার্তার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

নাটকটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে চট্টগ্রামের ফিরোজশাহ কলোনির ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা আছিয়া খাতুন বলেন,
“বাবারে, কী আর কমু! এত সুন্দর পুতুলের নাটক দেখে মন ভইরা গেছে। অনেক কিছু জানতে পারলাম।”

অন্যদিকে ষোলশহর স্টেশন এলাকার সাবু মিয়া বলেন,
“আহা! কী যে ভালো লাগছে। মানুষ দুর্যোগ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারছে।”

উল্লেখ্য, জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় ইপসা “শিশু-কেন্দ্রিক আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তর ও উপকূলীয় অঞ্চলের কমিউনিটি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নম্বর শুলকবহর, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ও ১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও কালিপুর ইউনিয়নে পাহাড়ধসের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে বিভিন্ন পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্প কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমধর্মী পুতুলনাট্যের আয়োজন করা হয়।

পুতুলনাট্য প্রদর্শনের সময় আয়োজিত জনসচেতনতামূলক আলোচনায় অংশ নেন ইপসার ব্যবস্থাপক (আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি) সানজিদা আক্তার, সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা ফারাবী আকাশ, ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম এবং শাহরিয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্টরা।

সচেতনতার বার্তা নিয়ে পুতুলের মঞ্চে সাজানো এই আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের মধ্যে আগাম প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে একটি কার্যকর সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।