চট্টগ্রাম 9:52 pm, Sunday, 31 August 2025

বাবার স্বপ্নে ডাক্তারি পড়ছে দুই সন্তান, শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন জামাই

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামের এক পরিবার বর্তমানে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে সমাজে অনুপ্রেরণার জায়গা তৈরি করেছেন। পরিবারের এক কন্যা ও একমাত্র পুত্র বর্তমানে ডাক্তারি পড়ছেন। শুধু সন্তানই নয়, পরিবারের বড় মেয়ের জামাইও শিক্ষিত এবং শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও পরিবারের ছোট মেয়ে সাফল্যের সাথে জিপিএ পাঁচ পেয়ে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে, বর্তমানে সে নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এই সাফল্যে পরিবারটি এলাকায় শিক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পরিবার প্রধান মো. জসিম উদ্দীন একজন স্বচ্ছল ও সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি। আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলেও তিনি সর্বদা সন্তানদের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার নিরন্তর উৎসাহ ও দিকনির্দেশনায় সন্তানরা একে একে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তার বড় মেয়ে সাদিয়া জান্নাত সুমাইয়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪র্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন এবং একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইবনে জসিম সেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৬৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে বড় মেয়ের জামাই আ হ ম নোমানও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন, যা পরিবারটিকে আরও গৌরবান্বিত করেছে।

পরিবার প্রধান জসিম উদ্দীন বলেন, “আমি সবসময় চেয়েছি সন্তানরা শুধু ডিগ্রি অর্জন করুক তা নয়, তারা যেন সমাজের কাজে আসে। আজ আমার দুই ছেলে মেয়ে ডাক্তারি পড়ছে, ছোট মেয়েও যতেষ্ট ট্যালেন্ট, মেয়ের জামাই শিক্ষক—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।” শুধু সন্তানদের সফলতায় নয়, জসিম উদ্দীনেরও রয়েছে একাধিক সফলতা। জসিম উদ্দীন রাজনৈতিক জীবনে একজন সফল ব্যক্তি। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা প্রজন্ম দলের সাবেক আহবায়ক, লালানগর প্রবাসী ঐক্য পরিষদ ও লালানগর প্রবাসী বিএনপি পরিবারের সাবেক উপদেষ্টা, উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা দায়িত্ব নিষ্টার সাথে পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী ফোরাম ও লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য হিসেবে আছেন।

এছাড়াও জড়িত আছেন একাধিক সামাজিক সংগঠনের সাথে। তিনি বলেন, “রাজনীতির পাশাপাশি আমি নিজেকে সামাজিক কাজে অনেক বেশি সম্পৃক্ত করেছি। এলাকার চিকিৎসা সেবাকে এগিয়ে নিতে আমি আমার মরহুম বাবা ইদ্রিস মিয়ার নামে একটা হাসপাতাল খোলার পরিকল্পনা করছি।” এলাকার মানুষ এ পরিবারকে শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, পরিবারটির এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে—যখন বাবা-মা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেন, তখন একটি পরিবারই নয়, পুরো সমাজ আলোকিত হয়। তারা আশা করছে, ভবিষ্যতে এই তিন সন্তান ডাক্তার হয়ে সমাজ ও দেশের সেবায় নিয়োজিত হয়ে আরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, “এ পরিবার আসলেই সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত। বাবার সংগ্রাম আর সন্তানদের নিষ্ঠা মিলে যে সাফল্যের গল্প রচনা করেছে, তা অন্য পরিবারগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে।” ছবির ক্যাপশনঃ উপরে বাম দিক থেকে জসিম উদ্দিন, তার ছেলে জুনাইদ ও জামাই নোমান ও তার দুই মেয়ে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙ্গুনিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন

বাবার স্বপ্নে ডাক্তারি পড়ছে দুই সন্তান, শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন জামাই

Update Time : 06:03:42 pm, Sunday, 31 August 2025

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামের এক পরিবার বর্তমানে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে সমাজে অনুপ্রেরণার জায়গা তৈরি করেছেন। পরিবারের এক কন্যা ও একমাত্র পুত্র বর্তমানে ডাক্তারি পড়ছেন। শুধু সন্তানই নয়, পরিবারের বড় মেয়ের জামাইও শিক্ষিত এবং শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও পরিবারের ছোট মেয়ে সাফল্যের সাথে জিপিএ পাঁচ পেয়ে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে, বর্তমানে সে নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এই সাফল্যে পরিবারটি এলাকায় শিক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পরিবার প্রধান মো. জসিম উদ্দীন একজন স্বচ্ছল ও সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি। আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলেও তিনি সর্বদা সন্তানদের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার নিরন্তর উৎসাহ ও দিকনির্দেশনায় সন্তানরা একে একে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তার বড় মেয়ে সাদিয়া জান্নাত সুমাইয়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪র্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন এবং একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইবনে জসিম সেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৬৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে বড় মেয়ের জামাই আ হ ম নোমানও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন, যা পরিবারটিকে আরও গৌরবান্বিত করেছে।

পরিবার প্রধান জসিম উদ্দীন বলেন, “আমি সবসময় চেয়েছি সন্তানরা শুধু ডিগ্রি অর্জন করুক তা নয়, তারা যেন সমাজের কাজে আসে। আজ আমার দুই ছেলে মেয়ে ডাক্তারি পড়ছে, ছোট মেয়েও যতেষ্ট ট্যালেন্ট, মেয়ের জামাই শিক্ষক—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।” শুধু সন্তানদের সফলতায় নয়, জসিম উদ্দীনেরও রয়েছে একাধিক সফলতা। জসিম উদ্দীন রাজনৈতিক জীবনে একজন সফল ব্যক্তি। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা প্রজন্ম দলের সাবেক আহবায়ক, লালানগর প্রবাসী ঐক্য পরিষদ ও লালানগর প্রবাসী বিএনপি পরিবারের সাবেক উপদেষ্টা, উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা দায়িত্ব নিষ্টার সাথে পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাঙ্গুনিয়া জাতীয়তাবাদী ফোরাম ও লালানগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য হিসেবে আছেন।

এছাড়াও জড়িত আছেন একাধিক সামাজিক সংগঠনের সাথে। তিনি বলেন, “রাজনীতির পাশাপাশি আমি নিজেকে সামাজিক কাজে অনেক বেশি সম্পৃক্ত করেছি। এলাকার চিকিৎসা সেবাকে এগিয়ে নিতে আমি আমার মরহুম বাবা ইদ্রিস মিয়ার নামে একটা হাসপাতাল খোলার পরিকল্পনা করছি।” এলাকার মানুষ এ পরিবারকে শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, পরিবারটির এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে—যখন বাবা-মা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেন, তখন একটি পরিবারই নয়, পুরো সমাজ আলোকিত হয়। তারা আশা করছে, ভবিষ্যতে এই তিন সন্তান ডাক্তার হয়ে সমাজ ও দেশের সেবায় নিয়োজিত হয়ে আরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, “এ পরিবার আসলেই সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত। বাবার সংগ্রাম আর সন্তানদের নিষ্ঠা মিলে যে সাফল্যের গল্প রচনা করেছে, তা অন্য পরিবারগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে।” ছবির ক্যাপশনঃ উপরে বাম দিক থেকে জসিম উদ্দিন, তার ছেলে জুনাইদ ও জামাই নোমান ও তার দুই মেয়ে।