মীরসরাই উপজেলার ১নং করেরহাট ইউনিয়নে উদ্যমী যুবকের হাত ধরে গড়ে উঠেছে দেড় হাজার সজনে গাছের একটি বাণিজ্যিক বাগান। পাহাড়ি ঢালু জমিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা এ বাগান ইতোমধ্যে এলাকায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
উদ্যোক্তা জানায়, পুষ্টিগুণ ও বাজার চাহিদা বিবেচনায় সজনে চাষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পিত ভাবে চারা রোপণ, সেচ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বর্তমানে বাগানে প্রায় ১,৫০০টি সজনে গাছ রয়েছে। গাছগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণ উৎপাদনে যাচ্ছে, ফলে আগামী মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
বাগানটির পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থায়ীভাবে পাঁচজন শ্রমিক কাজ করছেন। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন গাছের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা।
উদ্যোক্তা ইমাম হোসেন জানান, “যুব সমাজ চাইলে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে রূপ দিতে পারে। আমরা ছোট পরিসরে শুরু করলেও ভবিষ্যতে বাগানের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরো জানান, বাণিজ্যিকভাবে এখানের সজনে করলেও এখানে বিভিন্ন রকমের ফল গাছ, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি ও অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে এমন উদ্যোগ এলাকার অন্য যুবকদেরও কৃষিমুখী হতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি সজনে একটি পুষ্টিকর সবজি হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মীরসরাইয়ের করেরহাটে সজনে বাগান উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। সজনে একটি উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও অর্থকরী ফসল। সঠিক পরিচর্যা, সময়মতো সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমন করা গেলে এ বাগান থেকে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় যুবকদের স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এলাকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 








