চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর মোহাম্মদ শাহেদ ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক ও আতঙ্ক।
নিহত শাহেদ ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মোনাফ ও মোছাম্মদ জান্নাতুল ফেরদৌস বেগমের সন্তান। তাঁর বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নের পূর্ব সাহাব্দী নগর মহৎ পাড়া এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে শাহেদ ইসলাম বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারটি চরম উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা ও গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছিল। একপর্যায়ে গতকাল রাতে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ পারুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীহাট এলাকার পূর্ব পাশে একটি বিল থেকে গলাকাটা অবস্থায় শাহেদের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। নিহত কিশোরের পরিবার দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 


















