চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালী কেটে হত্যার মূল আসামি বাবু শেখ (৪৫) কে গ্রপ্তার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সন্ধা ৭ টায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিং এ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহম্মেদ খাঁন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত বাবু শেখকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইরার বাবা মনির হোসেন এর সাথে তাঁর (বাবু শেখ) পারিবারিক বিরোধ ছিল। তাদের সাথে প্রায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। বিরোধের জেরে তার মেয়েকে মেরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
আসামী বাবু শেখ তার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পহেলা মার্চ রবিবার ঘটনার দিন সকাল ১০ টার সময় মেয়েটিকে চকলেট কিনে দিয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে আসে। তারা প্রথমে কুমিরা থেকে বাস যোগে সীতাকুন্ড বাস স্ট্যান্ডে নামে। পরবর্তীতে পায়ে হেঁটে সীতাকুন্ড পাহাড় এলাকায় নিয়ে সেলোয়ার খুলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি তার সাথে ঘটা বিষয়টি মানুষকে বলে দিবে বলিয়া চিৎকার করলে সেই সময় অভিযুক্ত বাবু শেখ তার কাছে থাকা চাকু দিয়ে ভিকটিম এর গলা কেটে দেয় এবং মারা গেছে ভেবে ফেলে রেখে চলে আসে।
পরে ভিকটিম আস্তে আস্তে উপরে উঠে নির্মানাধীন রাস্তা দিয়ে আসতে থাকলে নিমার্ণ শ্রমিকগণ তাকে উদ্ধার করে বেলা দেরটার সময় থানায় খবর দেয়। ভিকটিমকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে ৩ মার্চ মঙ্গলবার ভোর ৫টায় মৃত্যুবরণ করেন।
গ্রেফতারকৃত বাবু শেখ কে পুলিশ সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল সীতাকুন্ড পাহাড় থেকে ভিকটিমের রক্ত মাখা সেলোয়ার সহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী বাবু শেখ কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানান পুলিশ ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার সামনে হাজির করলে জনতা ধোলায় দেওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে সন্ধা ৭ টায় নিহত ইরার নীজ এলাকা হাম্মাদিয়া মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ করে।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 








