হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নের ব্যবসায়ি জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ ও ঘটনার দশ দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে আটক করতে না পারার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ অগাস্ট) বিকালের দিকে উপজেলায় ইছাপুর বাজারস্থ মরিয়ম আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারের সামনে হাটহাজারী রাঙ্গামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মেখল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য কাইয়ুম এর সভাপতিত্বে জিয়া উদ্দিন বাবলুর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সভায় মেখলের সর্বস্তরের জনসাধারণের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, জুন নুর আইন, ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম, আব্দুল লতিফ, বোরহান উদ্দিন, কাজী এস এম রাশেদ, মো.নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ দেলোয়ার, মোহাম্মদ এমদাদুল হক, মো. আলমগীর প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এভাবে দিনের আলোতে একজনের বাড়িতে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ ইতিপূর্বে কখনো এ উপজেলায় হয়নি। এ ঘটনাই প্রমান করে বর্তমানে হাটহাজারী উপজেলাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে গুলি বর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে মেখলের সর্বস্থরের জনসাধরণকে সাথে নিয়ে আমরা থানা ঘেরাও করবো।’ এর আগে মেখলের সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল ইছাপুর বাজারের প্রধান সড়ক পদক্ষিন করে।
উল্লেখ্য, গত ২০ অগাস্ট বুধবার বেলা আনুমানিক এগারটার দিকে উপজেলার ৮নং মেখল ইউনিয়নের উত্তর মেখলের মৃত আবুল কাশেম এর পুত্র ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসময় বিল্ডিংটি তালাবদ্ধ ছিল এবং বিল্ডিংয়ে কোনো লোকজন ছিলোনা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিল্ডিং এর ২য় তলার বারান্দার গ্লাস দুটিতে গুলির চিহ্ন এবং বিল্ডিংয়ের নীচে ৯টি গুলির খোসা একটি তাজা গুলি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পেয়ে জব্দ করে। ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকতারাও ওইদিন ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করেছিলেন। একইদিন সন্ধ্যার দিকে পুনরায় হোয়াটসআপে পরিবারের সবাইকে প্রানে মারার হত্যা দেয় দুর্বৃত্তরা। সেদিন রাতেই ফটিকছড়ি উপজেলা এলাকা থেকে মো.মানিক (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ওই বাড়ির তত্বাবধায়ক মো.নুর নবী বাদী হয়ে নিকটস্থ হাটহাজারী মডেল থানায় অজ্ঞতনামাদের বিবাদী করে একটি অভিযোগ করেন। তবে ঘটনার দশদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।