চট্টগ্রাম 1:53 am, Monday, 1 September 2025

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রাঙ্গুনিয়ার হযরত খাদিজা (রা.) মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের একাংশ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আলমশাহপাড়ায় হযরত খাদিজা (রা.) মাদ্রাসার সুপার তৌহিদুল আনোয়ার নিজামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩১ আগষ্ট) সকালে মাদ্রাসার শিক্ষার, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সুপার তৌহিদুল আনোয়ার নিজামী একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আরেকটি আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মূল মাদ্রাসায় না পড়ে সেই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে উৎসাহিত করছেন। এতে করে হযরত খাদিজা (রা.) মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং আসন্ন মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচনে তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে বসানোর জন্য চাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “একজন সুপার একটা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন। তিনি যদি নিজের সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে ব্যক্তিগত আরেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করান, তবে সেই দায়িত্বশীল পদে থাকার নৈতিক অধিকার তার নেই।”

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. মিজানুর রহমান, রবিউল হাসান, ইলিয়াস কাঞ্চন, আলমগীর হাসান, খুরশেদ আলম, আবুল কালাম, ফাহিম, আজিজুল ইসলাম এজলাস, আবদুল মোনাফ, শহিদুল ইসলাম, খুরশেদ আলম, লোকমান, নুরুল আলম, আবদুর করিম, এসিস্ট্যান্ট সুপার ছলিমা আক্তার, শিক্ষক নাহিন আক্তার, নুরানী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট হবে এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে সুপার তৌহিদুল আনোয়ার নিজামী বলেন, “আমি কখনও শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর চেষ্টা করিনি এবং সভাপতির পদে কেউ আমার ব্যক্তিগত পছন্দের না। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নুরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হলে আমার আপত্তি নেই।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনীতির মাঝে মানুষের সেবার মনোভাব থাকতে হবে– মোহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

Update Time : 05:53:45 pm, Sunday, 31 August 2025

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আলমশাহপাড়ায় হযরত খাদিজা (রা.) মাদ্রাসার সুপার তৌহিদুল আনোয়ার নিজামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩১ আগষ্ট) সকালে মাদ্রাসার শিক্ষার, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সুপার তৌহিদুল আনোয়ার নিজামী একই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আরেকটি আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মূল মাদ্রাসায় না পড়ে সেই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে উৎসাহিত করছেন। এতে করে হযরত খাদিজা (রা.) মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং আসন্ন মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচনে তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকে বসানোর জন্য চাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “একজন সুপার একটা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেন। তিনি যদি নিজের সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে ব্যক্তিগত আরেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করান, তবে সেই দায়িত্বশীল পদে থাকার নৈতিক অধিকার তার নেই।”

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. মিজানুর রহমান, রবিউল হাসান, ইলিয়াস কাঞ্চন, আলমগীর হাসান, খুরশেদ আলম, আবুল কালাম, ফাহিম, আজিজুল ইসলাম এজলাস, আবদুল মোনাফ, শহিদুল ইসলাম, খুরশেদ আলম, লোকমান, নুরুল আলম, আবদুর করিম, এসিস্ট্যান্ট সুপার ছলিমা আক্তার, শিক্ষক নাহিন আক্তার, নুরানী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট হবে এবং শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে সুপার তৌহিদুল আনোয়ার নিজামী বলেন, “আমি কখনও শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর চেষ্টা করিনি এবং সভাপতির পদে কেউ আমার ব্যক্তিগত পছন্দের না। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নুরানী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হলে আমার আপত্তি নেই।”