চট্টগ্রাম 6:14 pm, Tuesday, 9 June 2026

মীরসরাইয়ে অবৈধ ক্লিনিকে নবজাতক মৃত্যু, থানায় অভিযোগ দায়ের

চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়ন ভোরের বাজারে, নরমাল ডেলিভারি সেন্টার থেকে এখন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে অবৈধ ক্লিনিকে। ভুয়া চিকিৎসক আর অপচিকিৎসার এক ভয়ঙ্কর অভায়রণ্যে। প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ভাবে চলছে কাজী মেডিকো নামের এই অবৈধ ক্লিনিক। প্রভাব এবং দুর্নীতির নগ্ন ছায়ায় সাধারণ মানুষের জীবন ঠেলে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুর মুখে।

৫ বছরে একাদিক নবজাতক মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে, প্রভাব খাটিয়ে টাকা দিয়ে সমধান করে আবার পরিচালনা করে এই অবৈধ ক্লিনিক।

ভুক্তভোগী তানভীর হোসেন বলেন সাহেরখালী ভোরের বাজার কাজী মেডিকো নামে একটি ক্লিনিকে আমার সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর প্রসবব্যাথা অনুভন করিলে আমি গত (১ জুন) আনুমানিক রাত ১১.৫০ মিনিটের সময়ে আমার স্ত্রীকে ক্লিনিকে নিয়ে যাই। তাদের পারামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি করি,সারারাত ক্লিনিকে রেখে কোন চিকিৎসা না করে সকাল ৯ টায় কি ঔষধ কতগুলা দিয়ে আমার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ করে দেয় কিছুক্ষপর আমাকে জানান’যে, বাচ্চার হার্ডভিড পাওয়া যাচ্ছেনা। আমার স্ত্রী ওবাচ্চার অবস্থা অবনতি হওয়া আমি উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাইতে চাইলে বাধা প্রদান করে এবং আমার স্ত্রী সহ আমাকে আটক করে রাখে এবং টাকা দাবীকরে। পরবর্তীতে আমার আত্বীয় স্বাজন টাকা পরিশোধ করেন এবং আমার স্ত্রীকে আশংকা জনক অবস্থায় মিঠাছড়া ডায়নামিক হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং ডাক্তার স্ত্রীর অবস্থা আশংকা জনক এবং বাচ্চার হার্ডভিড পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায় এবং কিছু পরে আমার স্ত্রী ছেলে সন্তান প্রসব করে। আমার সন্তান ও স্ত্রীর অবস্থা আশংকা জনক হওয়ার কারণে মীরসরাই উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সেএ নিয়ে গেলে ডাক্তার আমার বাচ্চাকে মৃত বলে যানায়। আমার স্ত্রীর অবস্থা এখনো আশংকা জনক থাকায় তাহার চিকিৎসা চলমান আছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।

সাহেরখালী ভোরের বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি
মোহাম্মদ খোকন বলেন পূর্বেও এই ক্লিনিকের নামে একাধিক অভিযোগ এসেছে, আমরা বাজার পরিচালানো কমিটি বসে সমধান করেছি। সরকারি অনুমতির কথা জিজ্ঞাসা করলে সে বলে কোন কাগজপত্র হয়না। এই ক্লিনিকের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে সরকারী অনুমতি না থাকলে ক্লিনিক দিবে কি করে।

কাজী মেডিকো ক্লিনিকের চিকিৎসক তাসলিমান আক্তার এর কাছে নবজাতক মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন রাত ১ টার সময় ক্লিনিকে আসে তাকে রাতে কোন চিকিৎসা না দিয়ে সকালে চিকিৎসা শুরু করি, ঔষধ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর ব্যথা অনুভব করলেও কিন্তু বাচ্চা জরায়ুর মুখে আটকে থাকার কারণে ডেলিভারি হয়নি ক্লিনিকের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনে জানান এই ধরণের ক্লিনিকের কোন অনুমতি দরকার হয়না, অনেক বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে এই ক্লিনিক পরিচালনা করতেছি।

মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন অবৈধ ভাবে ক্লিনিক পরিচালনা করার কোন সুযোগ নাই, মীরসরাই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নিয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করবো। নবজাতক মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তারা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে।

মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাছির উদ্দিন বলেন অবৈধ ভাব কারো ক্লিনিক দেওয়ার সুযোগ নাই, একটি ক্লিনিক দিতে হলে অনেক নিয়ম কানুন রয়েছে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মীরসরাই উপজেলা প্রশাসন কে নিয়ে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে, যে প্রেসক্রিপশনটি দেখিয়েছেন এটি কোন ডাক্তার নয় সে ডাক্তার লিখেছে এটিও একটি অপরাধ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জামায়াত: টিন, খাদ্যসামগ্রী ও শিক্ষাসহায়তার আশ্বাস

মীরসরাইয়ে অবৈধ ক্লিনিকে নবজাতক মৃত্যু, থানায় অভিযোগ দায়ের

Update Time : 01:39:43 pm, Tuesday, 9 June 2026

চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়ন ভোরের বাজারে, নরমাল ডেলিভারি সেন্টার থেকে এখন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে অবৈধ ক্লিনিকে। ভুয়া চিকিৎসক আর অপচিকিৎসার এক ভয়ঙ্কর অভায়রণ্যে। প্রশাসনের চোখের সামনেই বছরের পর বছর ধরে অবৈধ ভাবে চলছে কাজী মেডিকো নামের এই অবৈধ ক্লিনিক। প্রভাব এবং দুর্নীতির নগ্ন ছায়ায় সাধারণ মানুষের জীবন ঠেলে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুর মুখে।

৫ বছরে একাদিক নবজাতক মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে, প্রভাব খাটিয়ে টাকা দিয়ে সমধান করে আবার পরিচালনা করে এই অবৈধ ক্লিনিক।

ভুক্তভোগী তানভীর হোসেন বলেন সাহেরখালী ভোরের বাজার কাজী মেডিকো নামে একটি ক্লিনিকে আমার সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর প্রসবব্যাথা অনুভন করিলে আমি গত (১ জুন) আনুমানিক রাত ১১.৫০ মিনিটের সময়ে আমার স্ত্রীকে ক্লিনিকে নিয়ে যাই। তাদের পারামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি করি,সারারাত ক্লিনিকে রেখে কোন চিকিৎসা না করে সকাল ৯ টায় কি ঔষধ কতগুলা দিয়ে আমার স্ত্রীর অবস্থা খারাপ করে দেয় কিছুক্ষপর আমাকে জানান’যে, বাচ্চার হার্ডভিড পাওয়া যাচ্ছেনা। আমার স্ত্রী ওবাচ্চার অবস্থা অবনতি হওয়া আমি উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাইতে চাইলে বাধা প্রদান করে এবং আমার স্ত্রী সহ আমাকে আটক করে রাখে এবং টাকা দাবীকরে। পরবর্তীতে আমার আত্বীয় স্বাজন টাকা পরিশোধ করেন এবং আমার স্ত্রীকে আশংকা জনক অবস্থায় মিঠাছড়া ডায়নামিক হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং ডাক্তার স্ত্রীর অবস্থা আশংকা জনক এবং বাচ্চার হার্ডভিড পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায় এবং কিছু পরে আমার স্ত্রী ছেলে সন্তান প্রসব করে। আমার সন্তান ও স্ত্রীর অবস্থা আশংকা জনক হওয়ার কারণে মীরসরাই উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সেএ নিয়ে গেলে ডাক্তার আমার বাচ্চাকে মৃত বলে যানায়। আমার স্ত্রীর অবস্থা এখনো আশংকা জনক থাকায় তাহার চিকিৎসা চলমান আছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।

সাহেরখালী ভোরের বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি
মোহাম্মদ খোকন বলেন পূর্বেও এই ক্লিনিকের নামে একাধিক অভিযোগ এসেছে, আমরা বাজার পরিচালানো কমিটি বসে সমধান করেছি। সরকারি অনুমতির কথা জিজ্ঞাসা করলে সে বলে কোন কাগজপত্র হয়না। এই ক্লিনিকের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে সরকারী অনুমতি না থাকলে ক্লিনিক দিবে কি করে।

কাজী মেডিকো ক্লিনিকের চিকিৎসক তাসলিমান আক্তার এর কাছে নবজাতক মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন রাত ১ টার সময় ক্লিনিকে আসে তাকে রাতে কোন চিকিৎসা না দিয়ে সকালে চিকিৎসা শুরু করি, ঔষধ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর ব্যথা অনুভব করলেও কিন্তু বাচ্চা জরায়ুর মুখে আটকে থাকার কারণে ডেলিভারি হয়নি ক্লিনিকের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনে জানান এই ধরণের ক্লিনিকের কোন অনুমতি দরকার হয়না, অনেক বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে এই ক্লিনিক পরিচালনা করতেছি।

মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার বলেন অবৈধ ভাবে ক্লিনিক পরিচালনা করার কোন সুযোগ নাই, মীরসরাই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নিয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করবো। নবজাতক মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তারা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে।

মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাছির উদ্দিন বলেন অবৈধ ভাব কারো ক্লিনিক দেওয়ার সুযোগ নাই, একটি ক্লিনিক দিতে হলে অনেক নিয়ম কানুন রয়েছে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে মীরসরাই উপজেলা প্রশাসন কে নিয়ে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে, যে প্রেসক্রিপশনটি দেখিয়েছেন এটি কোন ডাক্তার নয় সে ডাক্তার লিখেছে এটিও একটি অপরাধ।