চট্টগ্রাম 5:31 am, Tuesday, 1 September 2026

কুকুরের প্রতি অদ্ভুত ভালবাসা!

কুকুরের প্রতি অদ্ভুত ভালবাসা চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার সমর মজুমদার ও গৃহিণী পল্লী শ্রী মজুমদার। পাশাপাশি তাদের কন্যা সন্তান প্রমাও ছোট থেকে কুকুর বিড়াল পুষতে ভালোবাসেন। তারা নগরীর লালখান বাজার এলাকায় একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকেন।  প্রতিদিন নিজের পরিবারের জন্য রান্নার পাশাপাশি দুই বেলা কুকুরদের জন্য আলাদা করে খাবার রান্না করেন এই গৃহিণী। পরে সেই খাবার নিজ হাতে আশপাশের কুকুরদের খাওয়ান। এছাড়া নিজ ফ্ল্যাটে রয়েছে অবলা প্রাণীগুলোর জন্য থাকার ব্যবস্থা। রয়েছে ২ টি কুকুর ও ৬ টি বিড়াল। এছাড়া দূর্ঘটনায় অসুস্থ প্রায় ২০ টির অধিক কুকুরকে করেছেন চিকিৎসা। ।

‎স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই গৃহিণী নিয়মিত কুকুরদের খাবার দিয়ে আসছেন। শুরুতে একটি-দুটি কুকুরকে খাবার  দিয়ে কাজটি শুরু হলেও ধীরে ধীরে প্রাণীগুলোর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ে রান্না করে তাদের খাবার দেন তিনি।

‎গৃহিণীর ভাষ্য, “মানুষের মতো প্রাণীরাও ক্ষুধা অনুভব করে। তারা কথা বলতে পারে না, নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা করতেও পারে না। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে।”

‎তিনি আরও বলেন, কুকুরগুলো খাবারের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে তাকে দেখলেই তারা ছুটে আসে। তাদের চোখের আনন্দই তার পরিশ্রমের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

‎স্বামী সমর মজুমদার বলেন, আমি একটি সরকারী চাকরী করি ‌ সেখান থেকে যা উপার্জন করি তার একটি অংশ এবং আমার স্ত্রী বাজার খরচ থেকে বাঁচিয়ে ঐ টাকা দিয়ে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা এই খাতে ব্যয় করি। এখন পর্যন্ত শুধু মাত্র কুকুর বিড়াল এর লালন পালন করায় ২ বার বাসা ছাড়তে হয়েছে ‌। এখন যেখানে থাকি সেটাও ছাড়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে। তারপরও আমরা আমাদের এই মানবিক কাজ করে যাব।

‎প্রতিবেশীরাও তার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সমাজে যেখানে অনেকেই অসহায় প্রাণীদের প্রতি নির্দয় আচরণ করেন, সেখানে ওই গৃহিণীর এমন মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।

‎প্রাণীপ্রেমীদের মতে, অসহায় প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া শুধু মানবিকতার পরিচয় নয়, এটি একটি সুন্দর ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের অংশ। তবে প্রাণীদের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

দুই বেলা রান্না করে কুকুরদের খাবার দেওয়ার এই ছোট্ট উদ্যোগটি তাই হয়ে উঠেছে মানবিকতার এক সুন্দর উদাহরণ। মানুষের পাশাপাশি নির্বাক প্রাণীর প্রতিও ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই গল্পটি সমাজের অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কুকুরের প্রতি অদ্ভুত ভালবাসা!

কুকুরের প্রতি অদ্ভুত ভালবাসা!

Update Time : 12:12:43 am, Tuesday, 1 September 2026

কুকুরের প্রতি অদ্ভুত ভালবাসা চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার সমর মজুমদার ও গৃহিণী পল্লী শ্রী মজুমদার। পাশাপাশি তাদের কন্যা সন্তান প্রমাও ছোট থেকে কুকুর বিড়াল পুষতে ভালোবাসেন। তারা নগরীর লালখান বাজার এলাকায় একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকেন।  প্রতিদিন নিজের পরিবারের জন্য রান্নার পাশাপাশি দুই বেলা কুকুরদের জন্য আলাদা করে খাবার রান্না করেন এই গৃহিণী। পরে সেই খাবার নিজ হাতে আশপাশের কুকুরদের খাওয়ান। এছাড়া নিজ ফ্ল্যাটে রয়েছে অবলা প্রাণীগুলোর জন্য থাকার ব্যবস্থা। রয়েছে ২ টি কুকুর ও ৬ টি বিড়াল। এছাড়া দূর্ঘটনায় অসুস্থ প্রায় ২০ টির অধিক কুকুরকে করেছেন চিকিৎসা। ।

‎স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই গৃহিণী নিয়মিত কুকুরদের খাবার দিয়ে আসছেন। শুরুতে একটি-দুটি কুকুরকে খাবার  দিয়ে কাজটি শুরু হলেও ধীরে ধীরে প্রাণীগুলোর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ে রান্না করে তাদের খাবার দেন তিনি।

‎গৃহিণীর ভাষ্য, “মানুষের মতো প্রাণীরাও ক্ষুধা অনুভব করে। তারা কথা বলতে পারে না, নিজেদের খাবারের ব্যবস্থা করতেও পারে না। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে।”

‎তিনি আরও বলেন, কুকুরগুলো খাবারের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে তাকে দেখলেই তারা ছুটে আসে। তাদের চোখের আনন্দই তার পরিশ্রমের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

‎স্বামী সমর মজুমদার বলেন, আমি একটি সরকারী চাকরী করি ‌ সেখান থেকে যা উপার্জন করি তার একটি অংশ এবং আমার স্ত্রী বাজার খরচ থেকে বাঁচিয়ে ঐ টাকা দিয়ে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা এই খাতে ব্যয় করি। এখন পর্যন্ত শুধু মাত্র কুকুর বিড়াল এর লালন পালন করায় ২ বার বাসা ছাড়তে হয়েছে ‌। এখন যেখানে থাকি সেটাও ছাড়ার জন্য নোটিশ দিয়েছে। তারপরও আমরা আমাদের এই মানবিক কাজ করে যাব।

‎প্রতিবেশীরাও তার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সমাজে যেখানে অনেকেই অসহায় প্রাণীদের প্রতি নির্দয় আচরণ করেন, সেখানে ওই গৃহিণীর এমন মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।

‎প্রাণীপ্রেমীদের মতে, অসহায় প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া শুধু মানবিকতার পরিচয় নয়, এটি একটি সুন্দর ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের অংশ। তবে প্রাণীদের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

দুই বেলা রান্না করে কুকুরদের খাবার দেওয়ার এই ছোট্ট উদ্যোগটি তাই হয়ে উঠেছে মানবিকতার এক সুন্দর উদাহরণ। মানুষের পাশাপাশি নির্বাক প্রাণীর প্রতিও ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই গল্পটি সমাজের অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারে।