চট্টগ্রাম 4:16 pm, Tuesday, 28 April 2026

হলিউড চেম্বার অফ কমার্সের ‘কমিউনিটি লিডার’ আরিফ প্রথম বাংলাদেশি ব্যবসায়ী’র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মর্যাদাপূর্ণ হলিউড চেম্বার অফ কমার্সের ‘কমিউনিটি লিডার’ পদে মনোনীত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান মহিন। তিনি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদার বাসা ওবায়দুল হক আংকুরের নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হাজী ওবায়দুল হক কোম্পানির নাতী ও মাহবুবুল আলম কোম্পানির দ্বিতীয় পুত্র।

‎প্রথম বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হিসেবে এই সম্মান অর্জন তার নেতৃত্বগুণ, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

‎উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া এককভাবে বিশ্বের ৪র্থ বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত। এমন একটি অর্থনৈতিক শক্তিশালী অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন থেকে এই স্বীকৃতি অর্জন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রবাসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

‎হলিউডের পর্যটনভিত্তিক ব্যবসায় তিনি ইতোমধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। “হলিউড বেস্ট সুভিনিয়ার”, “হলিউড সুভিনিয়ার ল‍্যান্ড” এবং “হলিউড সুভিনিয়ার হাট” এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি হলিউডের অন্যতম পরিচিত সুভিনিয়ার উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি “ইমেন্স নভেলটি”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হিসেবে ব্যবসার নতুন নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছেন।

‎তার সৃজনশীল নতুন নতুন ব্যবসায়িক কৌশল এবং সমস্যা খুঁজে বের করে তার যথার্থ সমাধান বের করাতে তার সমকক্ষ কেউ নেই বলেই অনেকে মনে করেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সমাজ উন্নয়ন ও মানবিক উদ্যোগেও সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যা তাকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছে।

‎প্রবাসে সাফল্যের পাশাপাশি দেশে মানবিক কার্যক্রমেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশে স্বনামধন্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান “ক্রিয়েটিভ ফাউন্ডেশন”-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শীতবস্ত্র বিতরণ, রোযার সামগ্রী বিতরণ, ঈদ সামগ্রী প্রদান, বন্যায় প্লাবিত এলাকায় প্রতিদিন ২০০টির বেশি পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, বন্যা পরবর্তী চিকিৎসা ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিবাহে সহায়তা, পুকুরে পাকা ঘাট নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং বিভিন্ন খেলাধুলার টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ নানাবিধ সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

‎এছাড়াও তিনি বয়স্ক মানুষদের ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে তাদের জন্য “ক্রিয়েটিভ ফেইথ রিকানেক্ট” নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যেখানে বয়স্কদের কুরআন এবং নামাজের ভুলে যাওয়া দোয়া সমূহ পুনরায় সহীহ ও শুদ্ধভাবে শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত “ক্রিয়েটিভ ক্রিকেট প্লাস” বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করে যুব সমাজে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।

‎ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, “আমি চাই তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী করতে। এজন্য ‘ট্রেডিং মার্কেট’, ‘অ্যামাজন সেলার’ এবং ‘ড্রপ শিপিং’-এর মতো বিষয়গুলো বিনামূল্যে শেখানোর উদ্যোগ নিতে চাই। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে কার্যক্রম পরিচালনাও আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

তিনি আরও বলেন, “হলিউডের মতো একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য গর্বের। আমি বিশ্বাস করি, ব্যবসা ও সমাজসেবা একসাথে এগিয়ে নিলে একটি টেকসই ও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।”

তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রবাসে বাংলাদেশিদের সক্ষমতা, নেতৃত্ব এবং সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হলিউড চেম্বার অফ কমার্সের ‘কমিউনিটি লিডার’ আরিফ প্রথম বাংলাদেশি ব্যবসায়ী’র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

হলিউড চেম্বার অফ কমার্সের ‘কমিউনিটি লিডার’ আরিফ প্রথম বাংলাদেশি ব্যবসায়ী’র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

Update Time : 02:12:49 pm, Tuesday, 28 April 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মর্যাদাপূর্ণ হলিউড চেম্বার অফ কমার্সের ‘কমিউনিটি লিডার’ পদে মনোনীত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান মহিন। তিনি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদার বাসা ওবায়দুল হক আংকুরের নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হাজী ওবায়দুল হক কোম্পানির নাতী ও মাহবুবুল আলম কোম্পানির দ্বিতীয় পুত্র।

‎প্রথম বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হিসেবে এই সম্মান অর্জন তার নেতৃত্বগুণ, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে আরও উজ্জ্বল হয়েছে।

‎উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া এককভাবে বিশ্বের ৪র্থ বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে পরিচিত। এমন একটি অর্থনৈতিক শক্তিশালী অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন থেকে এই স্বীকৃতি অর্জন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রবাসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

‎হলিউডের পর্যটনভিত্তিক ব্যবসায় তিনি ইতোমধ্যে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। “হলিউড বেস্ট সুভিনিয়ার”, “হলিউড সুভিনিয়ার ল‍্যান্ড” এবং “হলিউড সুভিনিয়ার হাট” এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি হলিউডের অন্যতম পরিচিত সুভিনিয়ার উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি “ইমেন্স নভেলটি”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হিসেবে ব্যবসার নতুন নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছেন।

‎তার সৃজনশীল নতুন নতুন ব্যবসায়িক কৌশল এবং সমস্যা খুঁজে বের করে তার যথার্থ সমাধান বের করাতে তার সমকক্ষ কেউ নেই বলেই অনেকে মনে করেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সমাজ উন্নয়ন ও মানবিক উদ্যোগেও সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যা তাকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছে।

‎প্রবাসে সাফল্যের পাশাপাশি দেশে মানবিক কার্যক্রমেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলাদেশে স্বনামধন্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান “ক্রিয়েটিভ ফাউন্ডেশন”-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শীতবস্ত্র বিতরণ, রোযার সামগ্রী বিতরণ, ঈদ সামগ্রী প্রদান, বন্যায় প্লাবিত এলাকায় প্রতিদিন ২০০টির বেশি পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, বন্যা পরবর্তী চিকিৎসা ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিবাহে সহায়তা, পুকুরে পাকা ঘাট নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং বিভিন্ন খেলাধুলার টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ নানাবিধ সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

‎এছাড়াও তিনি বয়স্ক মানুষদের ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে তাদের জন্য “ক্রিয়েটিভ ফেইথ রিকানেক্ট” নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যেখানে বয়স্কদের কুরআন এবং নামাজের ভুলে যাওয়া দোয়া সমূহ পুনরায় সহীহ ও শুদ্ধভাবে শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত “ক্রিয়েটিভ ক্রিকেট প্লাস” বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করে যুব সমাজে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।

‎ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, “আমি চাই তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী করতে। এজন্য ‘ট্রেডিং মার্কেট’, ‘অ্যামাজন সেলার’ এবং ‘ড্রপ শিপিং’-এর মতো বিষয়গুলো বিনামূল্যে শেখানোর উদ্যোগ নিতে চাই। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে কার্যক্রম পরিচালনাও আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

তিনি আরও বলেন, “হলিউডের মতো একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য গর্বের। আমি বিশ্বাস করি, ব্যবসা ও সমাজসেবা একসাথে এগিয়ে নিলে একটি টেকসই ও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।”

তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রবাসে বাংলাদেশিদের সক্ষমতা, নেতৃত্ব এবং সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।