মিরসরাইয়ে প্রতিবেশী এক কিশোরের ইটের আঘাতে এক সিএনজি অটোরিক্সা চালকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম আবুল হোসেন জাফর (৫০)। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ২টায় উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল হোসেন জাফর পশ্চিম পোলমোগরা গ্রামের মৃত বদিউল আলম এর ছেলে।
স্থানীয়রা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সিএনজি অটো রিক্সা চালক আবুল হোসেন জাফরের বড় ছেলে লিমনের সাথে প্রতিবেশী রায়হানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যাযয় আবুল হোসেন জাফর লিমনকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে কমিউনিটি সেন্টারের সামনে বিষয়টির মীমাংসা করতে রায়হান ও তার বাবা জহির উদ্দিনকে আসতে বলেন। সেটির জের ধরে রায়হানের মা বিবি জাহেদা ছেলের পক্ষ নিয়ে ছেলেসহ নিহত আবুল হোসেন জাফরের ঘরের পাশে এসে আবার ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।
ঝগড়ার এক পর্যায়ে উত্তেজিত রায়হান আবুল হোসেন জাফরের দিকে ইট ছুড়ে মারেন। ইট বুকে লেগে আবুল হোসেন জাফর গুরুতর আহত হলে তাকে বাড়ির পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক বাঁধন দাশ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে আবুল হোসেন জাফর নামে এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। নিউরোলজিক্যাল স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রায়হানের মা বিবি জাহেদা বলেন, আবুল হোসেন জাফরের ছেলের সাথে আমার ছেলের ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়াকে কেন্দ্র করে আবুল হোসেন জাফর আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। উত্তেজিত হয়ে তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন। আগেও দুইবার তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। আমি বা আমার ছেলে কারোরই ইটের আঘাতে তার মৃত্যু হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম পোলমোগরা এলাকায় প্রতিবেশীর ইটের আঘাতে সিএনজি চালিত অটো রিক্সা চালক আবুল হোসেন জাফর হত্যার ঘটনায় বিবি জাহেদা নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 








