চট্টগ্রাম 2:38 pm, Sunday, 28 June 2026

চির ঘুমে চলে গেলেন চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: রবিউল হোসেন

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

চির ঘুমে চলে গেলেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (সিইআইটিসি) উপদেষ্টা ও সাবেক ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

তিনি দুই পুত্র ডা. রাজীব হোসেন ও রিয়াজ হোসেন, নাতি-নাতনি, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার বাদে এশা চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ (বিশ্ব সমজিদ) ময়দানে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা, রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯ টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা ও মিরসরাইয়ের কাটাছড়া গ্রামে বাদ যোহর ৩য় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

ডা: রবিউল হোসেন ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানীর প্রেসিডেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত ‘দি অর্ডার অব মেরিট’, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সী ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস কর্তৃক ‘দি লাইফ লং সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড’, ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব অফথালমোলজি কর্তৃক ‘কংগ্রেস অব অফথালমোলজি অ্যাওয়ার্ড’, এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমী অব অফথালমোলজী কর্তৃক ‘দি ডিষ্টিংগুইসড্ সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড’ ও স্বর্ণপদক, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’, ‘চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক’, ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি অফথালমোলজি স্বর্ণপদক’, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত ‘অনারারি ডক্টরেট’, ‘দ্যা ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।

এছাড়া তিনি পেনিলপ বিলসন চেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক।
মিরসরাইয়ের ডা. আহমেদুর রহমান ও ওয়াহিদুন্নেসার একমাত্র পুত্র অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন দেশের চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে চক্ষুরোগ নিবারণ ও নিরাময়ের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি গঠনপূর্বক দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোগীর অপারেশন, ১৯৭৫ সালে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি শক্তির সমস্যা নিরূপণ ও প্রায় ৮ লাখ স্কুল ছাত্র-ছাত্রীর চোখ পরীক্ষা করা হয়।

১৯৮৩ সালে তিনি পাহাড়তলীতে ১৩০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি প্রতিষ্ঠায় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এই ইনস্টিটিউট হতে এ পর্যন্ত ২৬৬ জন ডাক্তার স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে চার বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্স চালু আছে।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমী অব অফথালমোলজিতে ২০ বছরেরও অধিক সময় জাতীয় কাউন্সিলর ছিলেন। এছাড়া তিনি ৩৫০ বেডের বিশ্বমানের ইম্পেরিয়াল হসপিটাল ও নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয় তাঁর আত্মজীবনী ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চির ঘুমে চলে গেলেন চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: রবিউল হোসেন

চির ঘুমে চলে গেলেন চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: রবিউল হোসেন

Update Time : 02:36:05 pm, Sunday, 28 June 2026

চির ঘুমে চলে গেলেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (সিইআইটিসি) উপদেষ্টা ও সাবেক ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

তিনি দুই পুত্র ডা. রাজীব হোসেন ও রিয়াজ হোসেন, নাতি-নাতনি, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শনিবার বাদে এশা চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ (বিশ্ব সমজিদ) ময়দানে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা, রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯ টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা ও মিরসরাইয়ের কাটাছড়া গ্রামে বাদ যোহর ৩য় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

ডা: রবিউল হোসেন ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানীর প্রেসিডেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত ‘দি অর্ডার অব মেরিট’, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সী ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস কর্তৃক ‘দি লাইফ লং সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড’, ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব অফথালমোলজি কর্তৃক ‘কংগ্রেস অব অফথালমোলজি অ্যাওয়ার্ড’, এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমী অব অফথালমোলজী কর্তৃক ‘দি ডিষ্টিংগুইসড্ সার্ভিসেস অ্যাওয়ার্ড’ ও স্বর্ণপদক, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড’, ‘চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক’, ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি অফথালমোলজি স্বর্ণপদক’, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত ‘অনারারি ডক্টরেট’, ‘দ্যা ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।

এছাড়া তিনি পেনিলপ বিলসন চেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক।
মিরসরাইয়ের ডা. আহমেদুর রহমান ও ওয়াহিদুন্নেসার একমাত্র পুত্র অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন দেশের চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে চক্ষুরোগ নিবারণ ও নিরাময়ের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি গঠনপূর্বক দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোগীর অপারেশন, ১৯৭৫ সালে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি শক্তির সমস্যা নিরূপণ ও প্রায় ৮ লাখ স্কুল ছাত্র-ছাত্রীর চোখ পরীক্ষা করা হয়।

১৯৮৩ সালে তিনি পাহাড়তলীতে ১৩০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি প্রতিষ্ঠায় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এই ইনস্টিটিউট হতে এ পর্যন্ত ২৬৬ জন ডাক্তার স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে চার বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্স চালু আছে।

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমী অব অফথালমোলজিতে ২০ বছরেরও অধিক সময় জাতীয় কাউন্সিলর ছিলেন। এছাড়া তিনি ৩৫০ বেডের বিশ্বমানের ইম্পেরিয়াল হসপিটাল ও নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত হয় তাঁর আত্মজীবনী ‘প্লেজার অ্যান্ড পেইন