চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় পাহাড়ি ভূমি ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা (Risk Sensitive Land Use Planning–RSLUP) প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) চট্টগ্রাম নগরীর হোটেল আগ্রাবাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন- ইপসা ও আশিকার বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। “এ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন ফর ল্যান্ডস্লাইড কজিং ডিসপ্লেসমেন্ট ফর কমিউনিটিস ইন চট্টগ্রাম অ্যান্ড বান্দরবান ডিস্ট্রিক্টস ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নীতিপত্র উপস্থাপন ও প্রচার করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল সরোয়ার, নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান, চুয়েটের সহকারী অধ্যাপক এটিএম শাহজাহান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান এবং ইপসার পরিচালক (সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট) নাছিম বানু। সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন সেভ দ্য চিলড্রেন-এর সিনিয়র অফিসার আবু তৈয়ব।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর ড. আকতার মাহমুদ।
প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন বলেন, “আজকের প্রেজেন্টেশনে চট্টগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে, যা চসিকের নগর পরিকল্পনা বিভাগ অবশ্যই গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেবে। তবে অনেক বিষয় নীতিগতভাবে ভালো হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।”
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি মাঠ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ওয়ার্ডে মাঠ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা নগর পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে।
ভূমিধস প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামে ভূমিধস মূলত অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বন উজাড় এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার দুর্বল বাস্তবায়নের সম্মিলিত ফল। বর্ষাকালে অল্প সময়ের অতিবৃষ্টিতেও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে, যা প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হচ্ছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা (RSLUP) প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে কার্যকর আইন প্রয়োগ, ঝুঁকিভিত্তিক জোনিং, বাধ্যতামূলক ভূ-প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং শক্তিশালী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় ঝুঁকিভিত্তিক জোনিং, বাধ্যতামূলক ভূ-প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, প্রতিবেশভিত্তিক ঢাল স্থিতিশীলতা, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং বাস্তুচ্যুতি-সংবেদনশীল পুনর্বাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে সতর্কতা, ১০০ মিলিমিটারে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং ২০০ মিলিমিটারে তাৎক্ষণিক উচ্ছেদের সুপারিশও তুলে ধরা হয়।
ইপসার প্রোগ্রাম ম্যানেজার (গবেষণা, মনিটরিং ও ইভালুয়েশন) ড. মোরশেদ হাসান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুর রহমান খাঁন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল মান্নান, বানীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রঘুনাথ নাহা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল হক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উর্মি সরকার প্রমুখ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি 













