ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ২০তম বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজাভুবন শীলপাড়ার শারদীয় দুর্গাপূজা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রতিমা আনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পূজার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। পূজাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
এ পূজার অন্যতম বিশেষত্ব হলো, পূজামণ্ডপের পাশে রয়েছে গোলাম মোহাম্মদ জামে মসজিদ এবং অপর পাশে রয়েছে একটি মাদ্রাসাসহ মসজিদ। পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয় থাকা সত্ত্বেও এখানে পূজা উদযাপনে কোনো সমস্যা হয় না। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, রাজাভুবন শীলপাড়ার এ আয়োজন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের একটি সুন্দর উদাহরণ। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব, তা এ এলাকার দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির বন্ধনে প্রতিফলিত হয়েছে।
দুই দশকের পথচলায় রাজাভুবন শীলপাড়ার দুর্গাপূজা এখন শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং স্থানীয় মানুষের মিলনমেলা ও সম্প্রীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর পূজাকে ঘিরে ভক্ত-দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
পূজা উদযাপন কমিটি: রাজাভুবন শীলপাড়া সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন রবিন মল্লিক, সিনিয়র সহ সভাপতি প্রণয় রাজ আচার্য্য এবং সহসভাপতি নিশান শীল। কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয় শীল। সহসাধারণ সম্পাদক দ্বীপ্ত মল্লিক। অর্থ সম্পাদক নয়ন শীল এবং সহঅর্থ সম্পাদক কৌশিক শীল।
এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সঞ্চয় শীল, সহ সাংগঠনিক পদে অন্ত মল্লিক, প্রচার সম্পাদক জিসান শীল, দপ্তর সম্পাদক বাপ্পু শীল, সহদপ্তর সম্পাদক পল্লব সুশীল, সদস্য সানি শীল, আপ্যায়ন সম্পাদক রাকেশ মল্লিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শান্ত মল্লিক এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে চম্পা শীল দায়িত্ব পালন করছেন।
২০তম বছরের এ আয়োজনকে ঘিরে পূজামণ্ডপে চলছে প্রস্তুতি। আয়োজকেরা আশা করছেন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসব সবার অংশগ্রহণে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 

















