চট্টগ্রাম 10:11 am, Friday, 15 May 2026

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন  (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। প্রায় একমাস ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বুধবার বিকাল ৫ টায় গুলশান আজাদ মসজিদের সামনে প্রথম, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে দ্বিতীয় ও একইদিন বিকাল ৫ টায় মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে সাত বার বিজয়ী হয়। প্রথম, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। এর আগে তিনি ১৯৭০ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মিরসরাই -ফটিকছড়ি আসনে বিজয়ী হোন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করে।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ঐতিহাসিক শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নেন বলে জানা যায়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রী ছিলেন।

ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী আয়েশা সুলতানার সঙ্গে সংসার জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু 

Update Time : 12:24:40 pm, Thursday, 14 May 2026

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন  (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। প্রায় একমাস ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বুধবার বিকাল ৫ টায় গুলশান আজাদ মসজিদের সামনে প্রথম, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে দ্বিতীয় ও একইদিন বিকাল ৫ টায় মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে আ’লীগের প্রার্থী হিসেবে সাত বার বিজয়ী হয়। প্রথম, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। এর আগে তিনি ১৯৭০ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মিরসরাই -ফটিকছড়ি আসনে বিজয়ী হোন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করে।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ঐতিহাসিক শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নেন বলে জানা যায়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রী ছিলেন।

ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী আয়েশা সুলতানার সঙ্গে সংসার জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।