চট্টগ্রাম 9:13 pm, Wednesday, 28 October 2026
সরফভাটায় আবারও খুন

ধান পাহারা দিতে যাওয়া চাষির হাত কাটা লাশ উদ্ধার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে বন্য হাতির কবল থেকে ধান পাহাড়া দিতে গিয়ে নেজাম উদ্দিন (৫০) নামের এক চাষি নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তার দুটি হাত কনুই থেকে কেটে ফেলে রেখে যায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মীরেরখীল কালিছড়ি ব্রিজ সংলগ্ন মাতব্বর বাড়ির পাশে বন্য হাতির কবল থেকে ক্ষেতের পাকা ধান রক্ষা করতে পাহারা দিতে গিয়েছিলেন নেজাম উদ্দিন। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।

নিহত নেজাম উদ্দিন সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল স্লুইস গেট এলাকার রফু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন এবং চাষাবাদের পাশাপাশি গাছ কাটার কাজ করতেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে কি কারণে, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, এখনো বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিহতের ছোট ভাই জসিম উদ্দিন জানান, রাতে ক্ষেতের পাকা ধান পাহারা দিতে গিয়েছিলেন নেজাম উদ্দিন। কিন্তু সকাল হয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে বের হয়। একপর্যায়ে সড়কের মাঝখানে বৃষ্টির পানিতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার দুটি হাত কনুই থেকে কাটা ছিল।

আহাজারি করে জসিম বলেন, ‘আমার ভাই একজন নিরীহ চাষা ও গাছ কাটার শ্রমিক ছিল। তাকে কেন, কী কারণে এমন নৃশংসভাবে খুন করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত এক মাসে সরফভাটা গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে। এর আগে অন্য একটি ঘরে রাতের আঁধারে প্রবেশ করে ঘুমন্ত মানুষকেও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই বছরে রাঙ্গুনিয়ায় ২০টির অধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি খুনের ঘটনাই ঘটেছে এই সরফভাটা ইউনিয়নে। এসব ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সন্ত্রাসীদের উৎপাতে মীরেরখীলসহ আশেপাশের গ্রামের শত শত পরিবার এখন এলাকাছাড়া বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই মামলা করার সাহস না পাওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে চিহ্নিত অপরাধীরা।

এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সরফভাটার নেতৃত্ব ও প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন স্থানীয়রা। তারা এলাকায় দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের আদলে সরফভাটায় চিরুনি বা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অপরাধীচক্রকে সমূলে দমনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরসরাইয়ে পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সরফভাটায় আবারও খুন

ধান পাহারা দিতে যাওয়া চাষির হাত কাটা লাশ উদ্ধার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

Update Time : 09:06:29 pm, Wednesday, 28 October 2026

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে বন্য হাতির কবল থেকে ধান পাহাড়া দিতে গিয়ে নেজাম উদ্দিন (৫০) নামের এক চাষি নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা তার দুটি হাত কনুই থেকে কেটে ফেলে রেখে যায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মীরেরখীল কালিছড়ি ব্রিজ সংলগ্ন মাতব্বর বাড়ির পাশে বন্য হাতির কবল থেকে ক্ষেতের পাকা ধান রক্ষা করতে পাহারা দিতে গিয়েছিলেন নেজাম উদ্দিন। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।

নিহত নেজাম উদ্দিন সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল স্লুইস গেট এলাকার রফু মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন এবং চাষাবাদের পাশাপাশি গাছ কাটার কাজ করতেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে কি কারণে, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, এখনো বলা যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিহতের ছোট ভাই জসিম উদ্দিন জানান, রাতে ক্ষেতের পাকা ধান পাহারা দিতে গিয়েছিলেন নেজাম উদ্দিন। কিন্তু সকাল হয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে বের হয়। একপর্যায়ে সড়কের মাঝখানে বৃষ্টির পানিতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার দুটি হাত কনুই থেকে কাটা ছিল।

আহাজারি করে জসিম বলেন, ‘আমার ভাই একজন নিরীহ চাষা ও গাছ কাটার শ্রমিক ছিল। তাকে কেন, কী কারণে এমন নৃশংসভাবে খুন করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত এক মাসে সরফভাটা গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে। এর আগে অন্য একটি ঘরে রাতের আঁধারে প্রবেশ করে ঘুমন্ত মানুষকেও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই বছরে রাঙ্গুনিয়ায় ২০টির অধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি খুনের ঘটনাই ঘটেছে এই সরফভাটা ইউনিয়নে। এসব ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সন্ত্রাসীদের উৎপাতে মীরেরখীলসহ আশেপাশের গ্রামের শত শত পরিবার এখন এলাকাছাড়া বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই মামলা করার সাহস না পাওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে চিহ্নিত অপরাধীরা।

এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সরফভাটার নেতৃত্ব ও প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন স্থানীয়রা। তারা এলাকায় দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের আদলে সরফভাটায় চিরুনি বা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অপরাধীচক্রকে সমূলে দমনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।